person
!
প্রোফাইল আপডেট

রাতের আকাশে তারা খসা বা তারা ছোটা আসলে কি? এটি কেন হয়? এ ব্যাপারে বিজ্ঞান কি বলে?

20 মার্চ 2021 "মহাকাশবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (বিশারদ) (4,107 পয়েন্ট) 2,374 বার প্রদর্শিত

image


লিংক কপি হয়েছে!

1 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 অপছন্দ
যেটাকে আমরা তারা খসা বা ছোটা বলি, সেটা আসলে তারা নয়, উল্কা।

উল্কার ছুটে চলা দেখতে তারার খসে পড়া বা ছুটন্ত তারার মতো লাগে। সোজা কথায় উল্কা দেখতে তারার মতো দেখায়।

জানতে ইচ্ছে করছে উল্কা কীভাবে সৃষ্টি হয়? ঠিক আছে, বলেই দিই তাহলে। মহাকাশে নানা রকম মহাজাগতিক বস্তু আছে। নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমন রয়েছে ভেসে বেড়ানো জড়পিণ্ড। ছোট-বড় অসংখ্য জড়পিণ্ড মহাকাশে ভেসে বেড়ায়। এই জড়পিণ্ডগুলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং অভিকর্ষ শক্তির কারণে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। এরপর তারা পৃথিবী বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে ওঠে। বায়ুমণ্ডলে আসার পর মেসোস্ফেয়ার স্তরে থাকা অবস্থায় আমরা আকাশে উল্কা দেখতে পাই। বেশিরভাগ উল্কাই বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে ছাই হয়ে যায়। যেগুলো ছাই হয় না। পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছুতে পারে সেগুলোই হচ্ছে উল্কাপিণ্ড। 

ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬৫ কিলোমিটার থেকে ১১৫ কিলোমিটারের মধ্যে খালি চোখে উল্কা দেখা যায়। 

উল্কা নানা আকারের হতে পারে। আকার অনুযায়ী তাদের ওজনও আলাদা আলাদা। উল্কা নানা রঙের হলেও কালো রঙের উল্কার সংখ্যাই বেশি। 

আগেই বলেছি ভূ-পৃষ্ঠে যখন কোনো উল্কা আছড়ে পড়ে তখন তাকে বলে উল্কাপিণ্ড। 

এই উল্কাপিণ্ড তিন রকমের হয়। এক ধরনের উল্কাপিণ্ড হচ্ছে খনিজ সিলিকেট দিয়ে গঠিত পাথর সমৃদ্ধ। আরেক ধরনের উল্কাপিণ্ড লোহা সমৃদ্ধ যা লোহা-নিকেল দিয়ে তৈরি। এবং সবশেষ রকমের উল্কাপিণ্ড বিভিন্ন রকম পাথর ও ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি। এগুলো লোহা-পাথর সমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড।

প্রতি বছর প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে আসে। তাদের বেশিরভাগই পাথর উল্কাপিণ্ড। এই পাথর উল্কাপিণ্ডগুলোকে আবার কন্ড্রাইট ও একন্ড্রাইট- এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পৃথিবীতে পতিত হওয়া ৮৬ শতাংশ উল্কাপিণ্ডই কন্ড্রাইট শ্রেণির এবং ৮ শতাংশ একন্ড্রাইট শ্রেণির। 

শুধু উল্কাপাতই নয়, উল্কাবৃষ্টিও হয় কিন্তু। অনেকগুলো উল্কা যখন একসাথে ছুটে আসে তখন সেটাকে বলে উল্কাবৃষ্টি। এটাকে আবার উল্কাঝড়ও বলে। এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত উল্কাঝড় দেখা যায়। 

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষরা আলাদা আলাদা সময়ে উল্কাপাত দেখতে পায়। সময়ই শুধু আলাদা হয় না, উল্কার পরিমাণও কম-বেশি হয়। দক্ষিণ গোলার্ধের মানুষ বেশি উল্কা দেখতে পায়। তারা গড়ে ঘণ্টায় ৩০টি করে উল্কা দেখে। আর উত্তর গোলার্ধের মানুষরা গড়ে প্রতি ঘণ্টায় দেখে ১০টি উল্কা।

উল্কা নিয়ে বিভিন্ন কুসংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। উল্কাপাতের সময়কে অনেকে ইচ্ছেপূরণের সময় বলে মনে করেন। তাদের ধারণা ‘তারা খসে পড়া বা তারা ছোটার’ সময়ে কোনো মনোস্কামনা বা প্রার্থনা করলে তা পূরণ হয়। কেউ কেউ ‘তারা ছোটা’ অর্থাৎ উল্কাপাতকে মনে করেন সৌভাগ্যের লক্ষণ। আবার অনেকের ধারণা শয়তানকে তাড়া করতে করতে ‘তারা খসে’ পড়ে বা তাদের মৃত্যু হয়। 

বেশিরভাগ মানুষই জীবনে কখনো না কখনো উল্কাপাত দেখে থাকে। রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে হঠাৎ চোখে পড়তে পারে উল্কাপাত। তুমি যদি উল্কাপাত না দেখে থাকো তবে রাতের বেলা আকাশের তারা গুণতে বসে যাও। কে জানে, ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা পেয়েও যেতে পারো পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা তারারূপী উল্কার।

~INS
20 মার্চ 2021 উত্তর প্রদান করেছেন (বিশারদ) (4,107 পয়েন্ট)

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
29 সেপ্টেম্বর 2019 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন জামিনুল রেজা (পন্ডিত) (12,493 পয়েন্ট)
1 উত্তর

18,654 টি প্রশ্ন

19,525 টি উত্তর

2,578 টি মন্তব্য

103,471 জন সদস্য

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

এক প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট/লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি আর ফ্রী প্রমোশন!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার ধারণাটাই বদলে দিবে! (পড়ুন...)

আপনি কি জানেন—প্রতি সেকেন্ডে কারও না কারও লেখা চুরি হচ্ছে? আপনার লেখাগুলো কি নিরাপদ? যখন লেখা ছড়িয়ে থাকে—সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ কিংবা সংবাদপত্রে—হযবরল অগোছালো অবস্থায়… তখন একদিকে চুরির ভয়, অন্যদিকে লেখক হারান নিজের পরিচয়। প্রমাণও থাকে না। পাঠকও বা কিভাবে পাবে মূল লেখকের সংস্পর্শ?

ই-নলেজ আইডিয়া—আপনার কেন্দ্রীয় লেখালেখির ঠিকানা। প্রতিটি লেখার জন্য থাকছে ভেরিফাইড পোষ্ট আইডি (eID), আর আপনার জন্য কেন্দ্রীয় লেখক আইডি নম্বর—যেটা ব্যবহার করতে পারেন Bio, CV, কিংবা বই-র রেফারেন্সে। আর ই-আইডি(eID) জুড়ে দিবেন প্রতিটি লেখার সঙ্গে। (যেমন- পোষ্ট eID: ১২৩ ; #eID_123 #enolej)। ফলে কপিরাইট সুরক্ষা থাকবে নিশ্চিত, আর পাঠক থাকবে মূল লেখকের সংস্পর্শে। আর ভেরিফাই হলে করতে পারবেন আপনার পেজ কিংবা ব্লগ এর ফ্রী প্রমোশন!

আপনার লেখক প্রোফাইলেই থাকবে আপনার আর্কাইভ—সব লেখা, ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি আর পাঠকের প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে গোছানো।

এখানে আপনি একা নন, পাচ্ছেন লেখক কমিউনিটি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো লেখক ছড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম একটাই—যেখানে আপনার স্বত্ব, স্বীকৃতি আর অবস্থান সুরক্ষিত। কেউ কারও eID নকল করতে পারবেনা, কেন্দ্রীয় সোর্স একটাই। এখানেই থাকছে লেখক র‍্যাংক—যেখানে তুলনায় ঝলমল করে উঠবে আপনার কৃতিত্ব।

এটাই আপনার কেন্দ্রীয় ঠিকানা। ভেরিফাই করুন আজই—আপনার লেখাকে দিন স্থায়ী সুরক্ষা।

বিস্তারিত পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ই-নলেজ কুয়েরি বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি প্রশ্ন-উত্তর করার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দিতে পারেন অন্যদের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান! বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়ালেখা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, বিজ্ঞান বিষয়ক, সাধারণ জ্ঞান, ইন্টারনেট, দৈনন্দিন নানান সমস্যা সহ সকল বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর করতে পারবেন! প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বাংলা ভাষায় উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য!
তাই আজই যুক্ত হোন ই-নলেজে আর বাড়িয়ে দিন আপনার জ্ঞানের গভীরতা...!
Empowering Novel Learners with Joy (Enolej)


...