person
!
প্রোফাইল আপডেট

TamimAdnani এর সময়ক্রম

দেশজুড়ে হিন্দুত্ববাদীদের আস্ফালন: কী বার্তা দেয় আমাদের-
 .
হাসিনা পতনের পর থেকেই হিন্দুদের একটা অংশ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলো সভা সমাবেশ করেছে। বিশেষ করে শাহবাগে তাদের সমাবেশ গুলো ছিল চোখে পড়ার মত। যেখানে তারা নিজেদেরকে নির্যাতিত নিপীড়িত বলে দাবি করেছে। কিন্তু আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোথাও হিন্দু নির্যাতনের কোন খবর পাইনি। তবে সীমান্তে বিএসএফ কতৃক হিন্দু নিহতের খবর পেয়েছি। অথচ এই নিয়ে তারা একটু উচ্চবাচ্চ্যও করেনি, উলটো নিহতদেরকে নির্যাতিত হয়ে পালাতে গিয়ে গুলি খেয়েছে বলে দাবী করেছে। হিন্দুদের এই অংশটি মূলত হিন্দুত্ববাদী আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত, ভারতীয় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন গুলোর দ্বারা পরিচালিত।
.
যে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর, জান-মালের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এদেশের মুসলিমরা রাত জেগে পাহারা দিলো, সেই মুসলিমদের শেষ করার জন্যই ভারতপন্থী হিন্দুরা এখন আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। মসজিদের সামনে গিয়ে উগ্রবাদী শ্লোগান দিচ্ছে। হিন্দু নির্যাতনের মিথ্যা গল্প সাজিয়ে ভারতীয় হিন্দুদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

গাদ্দারী এবং মুনাফেকী এদের মজ্জাগত স্বভাবে পরিণত হয়েছে। বহুদিন ধরে তারা এই ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছে। তাদের চরিত্র হল, যখন ঘাড়ের উপর লাঠি থাকে তখন ভগবান ডাকতেও দ্বিধা করেনা, কিন্তু যখনই সুযোগ পায় ছোবল মারার চেষ্টা করে। সাপ যেমন দুধ কলা খাওয়ালেও সুযোগ পেলে ছোবল মারে, এদের চরিত্রও ঠিক এরকম।
 .
বাংলাদেশে ইসকন কিংবা এধরনের সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত অনেক হিন্দুই বাংলাদেশকে ভারতের অংশ বানানোর স্বপ্ন দেখে। শুধু স্বপ্নই দেখেনা প্রকাশ্যে দাবিও জানায়। অনেকে আবার চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে হিন্দুদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানাচ্ছে। এই ঘটনাগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে ছোটখাটো বা বিচ্ছিন্ন মনে হলেও এর মূল অনেক গভীরে। এগুলো মূলত ভারতীয় উগ্র হিন্দুদের বাংলাদেশ দখল করে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আরএসএসের অধীনে এই দেশে অনেকগুলো সংগঠন এই লক্ষ্যে কাজ করছে। তাদের যদি এখনই মূল উপড়ে ফেলা না যায় তাহলে ভবিষ্যতে অনেক বেশি মূল্য চোকাতে হবে। এরজন্য আমাদেরকে শুধু অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকলে হবেনা। আলোচনা পর্যালোচনা করে কার্যকরী ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
.
যাদের ইশারায় তারা এত আস্ফালন করছে তাদের ব্যাপারেও আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের কোমর ভাঙ্গার জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এই লড়াই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, এই লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে।
29 ডিসেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
আপনি কার আদর্শের অনুসারী?
.
আজ আমরা যাদের অনুসরণ করছি, যাদের আদর্শকে উন্নতি, অগ্রগতি এবং আধুনিকতা ও সভ্যতার মাপকাঠি মনে করছি-তারা কি আমাদের জন্য সত্যিই অনুসরণীয় নাকি তাদের অনুসরণ আমাকে জাহান্নামের অতল গহবরে নিক্ষেপ করবে, এই প্রশ্ন নিয়ে কি কখনো ভেবেছি?
.
আমার মনে কি কখনো এই প্রশ্ন জেগেছে যে, প্রকৃতপক্ষে আমার জন্য অনুসরণীয় ব্যাক্তি কে? কার অনুসরণের মাধ্যমে আমি দুনিয়া ও আখিরাতে প্রকৃত সফলতা লাভ করতে পারবো?
.
এই প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্নজন হয়তো বিভিন্ন কথা বলবে। কেউ বলবে পশ্চিমাদের কথা। কেউ বলবে নায়ক নায়িকা বা খেলোয়াড়দের অনুসরণের কথা। কেউ বলবে অমুক ব্যক্তির অনুসরণের কথা, কেউ বলবে অমুক দলের অনুসরণের কথা। সবাই নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী উত্তর দেবে। কিন্তু সঠিক উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে আমাদের মালিকের পক্ষ হতে প্রেরিত কিতাব কুরআনুল কারীমের কাছে ফিরতে হবে। কারণ কুরআনুল কারীমই আমাদেরকে সব ব্যাপারে সঠিক দিশা দিতে পারে। কার অনুসরন আমাকে সফলতার পথ দেখাবে আর কার অনুসরণ আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে এই ব্যাপারে কুরআনুল কারীম আমাদেরকে সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছে।
.
যাদের অনুসরণ করবো আমরা-

সর্বপ্রথম আমরা যার অনুসরণ করবো তিনি হলেন সাইয়িদুল মুরসালিন খাতামুন নাবিয়্যিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন।
لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَکَرَ اللّٰهَ کَثِیۡرًا
নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে যারা আল্লাহ ও পরকালে প্রত্যাশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে। সূরা আহজাব-২১
.
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করবে সে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ করবে এবং দুনিয়া আখিরাতে সফলকাম হবে।
আল্লাহ তাআলা সূরা আলে ইমরানে ইরশাদ করেন-
قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰهَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰهُ وَ یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
হে নবী আপনি বলে দিন,  যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে  আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন, বস্তুতঃ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুরা আলে ইমরান-৩১
.
সকল নবীর আদর্শ একই ছিল। তা হল সীরাতে মুস্তাকিম। সকল রাসুলের পথ একই ছিল-তা হল একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদত এবং তাগুতকে বর্জন। এই পথ আমাদের কে অনুসরণ করতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন- وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ
আমি সকল জাতির মাঝে রাসুল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। (সুরা নাহলঃ৩৬)
.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে অনুসরণ করতে। নবীদেরকে অনুসরণ করার ব্যপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন- أُولَٰئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۖ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ ۗ قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْعَالَمِينَ
তারাই হলেন এমন  যাদেরকে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা পথপ্রদর্শন করেছেন, সুতরাং তাদের পথের দিশা আপনি অনুসরণ করুন, আপনি বলে দিন আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাইনা। এটা তো উপদেশ সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য। (সুরা আনয়ামঃ৯০)  
.
মিল্লাতে ইব্রাহীমের অনুসারী হিসেবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের আদর্শের অনুসরণ করা আমাদের সবার কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা সুরা মুমতাহিনায় ইরশাদ করেন-
قَدۡ کَانَتۡ لَکُمۡ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ فِیۡۤ اِبۡرٰهِیۡمَ وَ الَّذِیۡنَ مَعَهٗ ۚ اِذۡ قَالُوۡا لِقَوۡمِهِمۡ اِنَّا بُرَءٰٓؤُا مِنۡکُمۡ وَ مِمَّا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ ۫ کَفَرۡنَا بِکُمۡ وَ بَدَا بَیۡنَنَا وَ بَیۡنَکُمُ الۡعَدَاوَۃُ وَ الۡبَغۡضَآءُ اَبَدًا حَتّٰی تُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰهِ وَحۡدَهٗۤ اِلَّا قَوۡلَ اِبۡرٰهِیۡمَ لِاَبِیۡهِ لَاَسۡتَغۡفِرَنَّ لَکَ وَ مَاۤ اَمۡلِکُ لَکَ مِنَ اللّٰهِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ رَبَّنَا عَلَیۡکَ تَوَکَّلۡنَا وَ اِلَیۡکَ اَنَبۡنَا وَ اِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ
অবশ্যই তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, “আমরা তোমাদের থেকে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত কর তা হতে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষনা দিচ্ছি।  আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি। আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শক্ৰতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হল; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আন। তবে ব্যতিক্রম তাঁর পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তিঃ আমি অবশ্যই আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব; আর আপনার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন কিছুর অধিকার রাখি না। (ইবরাহীম ও তাঁর অনুসারীগণ আরো বলেছিলেন) হে আমাদের রব! আমরা আপনারই উপর তাওয়াক্কুল করেছি, আপনারই অভিমুখী হয়েছি, আর আপনার কাছেই তো ফিরে যেতে হবে।  সুরা মুমতাহিনা-৪
.
এমনই ছিলেন আমাদের জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষনা দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, সাথে শত্রুতা এবং বিদ্বেষের ঘোষনাও দিয়েছেন তিনি।
.  
দ্বিতীয়ত আমরা সাহাবায়ে কেরাম ও খাইরুল কুরুনের ইত্তিবা করবো।
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে সাহাবায়ে কেরামের ইত্তিবার নির্দেশ দিয়ে বলেন-
فَاِنۡ اٰمَنُوۡا بِمِثۡلِ مَاۤ اٰمَنۡتُمۡ بِهٖ فَقَدِ اهۡتَدَوۡا
সুতরাং তারা  যদি তেমন ঈমান আনে, যেমন তোমরা ঈমান এনেছো, তাহলে তারা সঠিক পথ পাবে। সুরা বাকারা ১৩৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
خَيْرُكُمْ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ قَالَ عِمْرَانُ لاَ أَدْرِي ذَكَرَ ثِنْتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا بَعْدَ قَرْنِهِ ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ يَنْذِرُونَ وَلاَ يَفُونَ وَيَخُونُونَ وَلاَ يُؤْتَمَنُونَ وَيَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ وَيَظْهَرُ فِيهِمْ السِّمَنُ
তোমাদের মধ্যে আমার যুগ সর্বোত্তম, এরপর তাদের পরবর্তী যুগ অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ। .......এরপর এমন লোকেরা আসবে যারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না। তারা খিয়ানাত করবে, আমানতদার হবে না। তারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের কাছে সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। আর তাদের মাঝে স্থুলতা প্রকাশ পাবে।  বুখারী ৬৬৯৫
.
এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, উম্মতের জন্য অনুসরণীয় হল প্রথম তিন যুগের মুসলিমরা। অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং আতবায়ে তাবেয়ীন। কারণ তারা নবুয়তের যুগের কাছাকাছি ছিলেন এবং তাদের সময়কালে ফিসক ফুজুর এবং নফসের অনুসরণ ছিল খুবই স্বল্প পরিমাণে।
.   
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুসরণযোগ্য হলেন খোলাফায়ে রাশেদীন রাদিয়াল্লাহু আনহুম। এক হাদীসে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের ইত্তিবার আদেশ দিয়ে বলেছেন-
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাতের অনুসরণ করবে, তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কার হতে দূরে থাকবে! কারণ প্রতিটি নব আবিষ্কার হলো বিদআত এবং সব ধরণের বিদআতই হল ভ্রষ্টতা। আবু দাউদ- ৪৬০৭
.
খাইরুল কুরুনের পর যুগে যুগে যেসকল নেককার এবং আল্লাহভীরু মুত্তাকীদের আগমণ হয়েছে তাদেরও অনুসরন করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে জামাতে সাহাবা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন ছাড়া অন্যদের যেন অন্ধ অনুকরণ না করা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা কুরআন সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের পথে অটল থাকবেন ততক্ষন তাদের অনুসরণ করা হবে। কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যাতিক্রম দেখা গেলে ওই ক্ষেত্রে তার অনুসরণ বর্জন করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআন সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের প্রকৃত অনুসারী হওয়ার তাওফিক দান করুন।
.
লেখার তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
09 ডিসেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
গাজ্জাহকে যেন ভুলে না যাই !!!
.
.

বাংলাদেশের সমস্ত মুসলিম ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি- গাজ্জাহকে ভুলে যাবেন না। ১৮ জুলাই থেকে ৫ই আগস্ট পর্যন্ত আপনারা কিছুটা হলেও গাজ্জাবাসীর মতো রক্তাক্ত দিন পার করেছেন। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার একান্ত অনুগ্রহে আপনারা সেই বিভৎস রক্তাক্ত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সুতরাং এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করুন। এই রক্তাক্ত আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান, যারা আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসায় সহায়তা করুন। গাজ্জায় আপনাদের ভাইবোনেরা দীর্ঘ একবছর যাবৎ এরচেয়েও হাজার গুণ ভয়াবহ সময় পার করছে। সুতরাং নির্ভরযোগ্য সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সাধ্যমত গাজার জন্য সাহায্য প্রেরণ করা অব্যাহত রাখুন। গাজায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দিবেন না।
.
যু'দ্ধটা দীর্ঘ হওয়ায় অনেকেই আমরা গাজ্জাহকে ভুলে গেছি, কিংবা আগের মতো করে অনুভব করছিনা। অনেকেই আর আগের মতো সাহায্য-সহযোগিতা পাঠাচ্ছেন না। এটা মোটেও সমীচিন নয়। প্রতি মুহূর্তে গাজ্জাহ যেন আমাদের কাছে জীবন্ত থাকে, গাজ্জার প্রতি আমাদের কর্তব্য যেন সর্বদা আদায় হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
.
একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে গাজার একজন সম্মানিত আলেম একটি পোস্ট করেছেন, যেখান থেকে বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা অনুভব করা যায়। পাঠকদের জন্য লেখাটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হল-
.
"অত্যন্ত পরিতাপের সাথে বলছি- গাজার প্রয়োজনগ্রস্থ মানুষদের জন্য ত্রান ও সাহায্য পাঠানোর কার্যক্রমে আগের তুলনায় অনেক ভাটা পড়ে গেছে। অথচ গাজাবাসী বর্তমানে এমন এক সময় পার করছে যখন কিনা বহির্বিশ্ব থেকে ত্রান পাঠানোর প্রয়োজন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি, এমনকি যু'দ্ধের প্রথম মাসগুলোর চেয়েও বেশি। কারণ তখন গাজ্জার অনেকের কাছে আগের সংরক্ষিত কিছু টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র ছিল। বড় বড় কিছু সংস্থার মাধ্যমে সাহায্য পৌঁছার ব্যবস্থা ছিল, দ্রব্যমূল্য তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল, জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার অবস্থা বর্তমানের তুলনায় কম ভঙ্গুর ছিল।
.
এখন তো সংরক্ষিত সমস্ত কিছুই নিঃশেষ হয়ে গেছে। সাহায্য আসাও অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে।প্রয়োজন আরো বেড়েছে, জীবন ও জিবিকার মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোরও প্রচন্ড সংকট তৈরী হয়েছে..
.
গাজ্জাবাসীকে সাহায্য করা সমস্ত মুসলমানদের উপর ফরজ। যদি অস্ত্র দিয়ে যু'দ্ধ করার মাধ্যমে গাজাবাসীকে সাহায্য করা সাধ্যে না কুলায় তাহলে কমপক্ষে তো  সম্পদ দিয়ে, সাহায্য পাঠিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরী। এটাই কুরআনের নির্দেশ, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ, এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর তরীকা।
.
পথ একটু দীর্ঘ হওয়ায় আমরা যেন থেমে না যাই, দমে না যাই। কারণ, ইমান ও সততার অন্যতম আলামত হলো দ্বীনের পথে নিরন্তর পথচলা অব্যাহত রাখা। আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কোনো ইলাহ নেই"
29 নভেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
দুনিয়ার ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়; মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ তাআলাকে ভয় করুন
.

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক পরিচিত একটি নাম। বিচারের নামে অবিচার এবং সময়ে সময়ে করা দম্ভোক্তির কারণে বিশেষভাবে কুখ্যাত ছিল সে। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে চোরের মতো পালানোর সময় ধরা পড়েছে। অথচ এই কিছুদিন পূর্বেও—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও তার উদ্ধত আচরণ, যুদ্ধংদেহি মনোভাব এবং অন্যায় হুমকি দেশের মানুষকে অবাক করেছে, আহত করেছে। সেদিনকার সেই দাম্ভিক-গর্বোদ্ধত মানিকের আজ এই অবস্থা কেন? কারণ, এখন আর ক্ষমতা নেই। ক্ষমতা মানুষকে এমনই দাম্ভিক আর অহংকারী বানিয়ে রাখে। ক্ষমতার চেয়ার সরে গেলেই সে বুঝতে পারে, এই সমাজে মূলত তার এক পয়সারও মূল্য নেই।
.
শুধু এক মানিক না; আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানও পলায়নরত অবস্থায় গ্রে-প্তা/র হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ওবায়দুল কাদের, আইনের লেবাসধারী জু/লু-মে'র আরেক মূর্ত প্রতীক ডিবি হারুনসহ অসংখ্য নেতাকর্মী পলাতক। শুধু কি তাই, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররামের খতীব রুহুল আমিনও লাপাত্তা। । সাধারণ জনতা এসকল জালিমদের শাস্তি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। দিনে দিনে জু/লু-মে'র খাতায় যে দেনা-পাওনার যে বিপুল হিসাব জমেছে দীর্ঘ এই ১৫ বছরে, সাধারণ জনতা গড়ায়-গণ্ডায় তা শোধ করতে চায়।
.
আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, দিপু মনি, বিচারপতি মানিক, হাসানুল হক ইনু ও আরাফাতসহ যারা ইতোমধ্যে গ্রে-প্তা/র হয়েছে, তাদের প্রতি জনমানুষের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত আ'ক্রো'শ আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন। জু/লু-মে'র রাজ্য যারা তৈরি করে তাদের শেষ পরিণাম এমনই হয়।জনৈক লেখক উদ্ধৃত করেছেন: “রাজ্য চালনা হচ্ছে, সিংহের পিঠে বসে জীবন কাটানো। অর্থাৎ, সে-সিংহের পিঠ থেকে এক মুহূর্তের জন্য নামবার উপায় নেই। (যতক্ষণ তুমি উপরে আছো, ততক্ষণ তুমি নিরাপদ। একবার নামলেই শেষ। শুধু শুধু কি আর রাজার আসনকে “সিংহাসন” বলে!)
.
এর বিপরীত চিত্রটিও আপনারা দেখেছেন নিশ্চয়ই — কারারুদ্ধ মাজলুমদের কারাগার/আয়নাঘর থেকে বেরিয়ে আসার চিত্রটি। এতদিন যারা নি'র্যা'তনের শিকার ছিলেন, সাধারণ জনতা আজ তাদের কেমন বিপুল উচ্ছ্বাসে বরণ করে নিচ্ছে। দিনের পর দিন মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী থাকা উলামায়ে কেরামের মুক্তির দৃশ্যও আপনারা দেখেছেন নিশ্চয়ই। লাখ লাখ জনতার এমন নির্মল-স্বচ্ছ আর অকৃত্রিম ভালোবাসাকে স্বৈরাচারী সরকার কারাগারে বন্দি করে রেখেছিল। প্রতিটি পাঁজরের হাড় নিঙরে আজ সে ভালোবাসা বয়ে যাচ্ছে বাঁধভাঙা স্রোতের ন্যায়। এরাই তো প্রকৃত বাদশাহ, যাঁরা মানুষের হৃদয়ে বসে বাদশাহী করেন। আজ দেলোয়ার হুসাইন সাঈদী রহিমাহুল্লাহ বেঁচে থাকলে সাধারণ জনতা তাঁকেও এভাবেই বরণ করে নিত। তিনি সসম্মানে বেরিয়ে আসতেন কারাগার থেকে।
.
বস্তুত এই দুনিয়ার প্রকৃত বাদশাহ আল্লাহ্‌ তাআলা। তিনি যাকে ইচ্ছা সামান্য কদিনের ক্ষমতা দান করেন। অথচ সামান্য কদিনের ক্ষমতা মানুষকে সাক্ষাৎ ফেরাউনে পরিণত করে দেয় যখন সে কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী সেই ক্ষমতাকে ব্যবহার না করে।। সে বেমালুম ভুলে যায় যে, তার উপরেও একজন বাদশার বাদশাহী চলছে। ফলে আল্লাহ্‌ তাআলা কখনো কখনো নিজ বাদশাহীর প্রকাশ ঘটান। কিয়ামতের দিন কারো বাদশাহী কোনো কাজে আসবে না। সেদিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলার। পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত মানুষ এসেছে, সকলকে একত্রিত করে সেদিন তিনি ঘোষণা করবেন:  لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ (আজকের রাজত্ব কার?) মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার ভয়ে যখন কেউ তাঁর এই প্রশ্নের উত্তর দেবে না, তখন তিনি নিজেই এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন: لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ (এক (অদ্বিতীয়) প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহর। সুরা আল-মুমিন, আয়াত নং-১৬) এর পরের আয়াতে তিনি বলেন: الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ (আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে; আজ কোনো জু/লু-ম করা হবে না।)
.
সুতরাং এখনো যারা ক্ষমতায় আছেন তারা পূর্ববর্তীদের ইতিহাস স্মরণ রাখুন। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যাবেন না। নিজেদের অজ্ঞাতসারে জালিম হয়ে যাবেন না। সুদ-ঘুষের রাজত্ব কায়েম করবেন না। ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করবেন না। আলেম-উলামা ও দীনদার শ্রেণীর সঙ্গে জু/লু-মে'র আচরণ করবেন না। রাসূলকে নিয়ে কটাক্ষকারীদের প্রশ্রয় দেবেন না। আল্লাহ্‌ তাআলা যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন আর যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন— এ বাস্তবতা এখন আপনাদের সামনেই। আপনারা ক্ষমতা থেকে নামার পর জনসাধারণ আপনাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তা ঠিক করার দায়িত্ব স্বয়ং আপনাদের হাতেই ন্যস্ত।
23 নভেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
উপমহাদেশের মুসলিমদের ভাগ্যাকাশে দূর্যোগের ঘনঘটা-
 .
উপমহাদেশের হিন্দুদের মুসলিম বিদ্বেষের ইতিহাস বহু পুরনো। যুগ যুগ ধরেই তারা মুসলিম বিদ্বেষ লালন করে আসছে। সুলতানী আমলে মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও ব্রিটিশরা আসতেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে। ব্রিটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে শুরু করে ভয়াবহ মুসলিম নির্যাতন। ব্রিটিশরা ক্ষমতায় থাকাকালীন সাধারনত হিন্দুদেরকেই রাজত্ব ও জমিদারী দান করতো। কিন্তু তারা একে প্রজাদের সেবা করার সুযোগ মনে না করে মুসলিমদের উপর নির্যাতনের হাতিয়ার বানাতো। এমন কোন নির্যাতন ছিলোনা যা তারা মুসলিমদের উপর করতোনা। তারা নির্যাতনের এমন এমন পদ্ধতি আবিস্কার করেছিল যা কল্পনাকেও হার মানায়।
.
ইসলামী নাম রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, এই ধরণের নাম রাখলে তাদের কর দিতে হতো, দাঁড়ির জন্য কর দিতে হতো, মুসলিমদের রীতি নীতি পালনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। গরু জবাই ছিল নিষিদ্ধ। হিন্দুদের পূজা পার্বণ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিল। এছাড়াও ইসলামবিরোধী ও মানবতাবিরোধী আরো অনেক  নিয়মনীতি ছিল, যা পালনে সবাই বাধ্য থাকতো। একটু এদিক সেদিক হলেই শুরু হতো ভয়াবহ নির্যাতন। সেসব নির্যাতনের কথা ভাবলে আজও ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে।
হিন্দুদের এসকল নির্যাতন থেকে মুসলিমদের মুক্তি দেয়ার জন্যই শহীদ তিতুমীর ও হাজী শরীয়তুল্লাহর মত বীরেরা (রহিমাহুমুল্লাহ) সেসময় ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
.
এভাবে প্রায় শতাব্দীকালেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালায় হিন্দুরা। এরপর ১৯৪৭ সালে যখন দেশভাগ হয় তখন নির্যাতনের সুযোগ হাতছাড়া হতে দেখে রাগে ক্ষোভে বিভিন্নস্থানে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা লাগায়। এসব দাঙ্গায় সেসময় হাজার হাজার মুসলিম প্রাণ হারান। আজও থামেনি তাদের সেই হিংস্রতা। ভারতে গত পঁচাত্তর বছরে কয়েক হাজার দাঙ্গা বাঁধিয়েছে তারা। যার মাধ্যমে কয়েক লাখ মুসলিমকে হত্যা করেছে।
.
এসব দাঙ্গার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো...
 (১) ১৯৬৪ সালের কলকাতা দাঙ্গা, এই দাঙ্গায় অন্তত ৮শ মুসলমান নিহত হন
(২) নেলী গণহত্যা, ১৯৮৩ সালে আসামে সংঘটিত এই গণহত্যায় অন্তত দশ হাজার মুসলিম প্রাণ হারিয়েছেন।
(৩) মুরাদাবাদ গণহত্যা, ১৯৮০ সালে উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে সংঘটিত এই গণহত্যায় পুলিশের গুলিতে এবং দাঙ্গায় কয়েকশো মুসলিম নিহত হয়।
.
(৪) হাশিমপুরা গণহত্যা, ১৯৮৭ সালে উত্তর প্রদেশের মিরাট শহরে স্রেফ মুসলিম হওয়ার অপরাধে পুলিশ গুলি চালিয়ে অন্তত ৩৮ জন মুসলিমকে হত্যা করে এবং উগ্র হিন্দুদের আগুনে পুড়ে ও তরবারীর আঘাতে আরো অসংখ্য মুসলিমকে নিহত হয়।
(৫) ভাগলপুর দাঙ্গা, ১৯৮৯ সালে বিহারে সংঘটিত এই দাঙ্গায় অন্তত ১ হাজার মুসলমানকে হত্যা করা হয় এবং ৫০ হাজার মুসলমানকে ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
(৬) বাবরী মসজিদ ধ্বংস পরবর্তী দাঙ্গা, ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ ধ্বংস এবং একে কেন্দ্র করে সংঘটিত দাঙ্গায় অন্তত দুই হাজার মুসলিমকে হত্যা করা হয়।  
.
(৭) গুজরাট দাঙ্গা, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০০২ সালে গুজরাটে সংঘটিত ওই দাঙ্গায় অন্তত ১০ হাজার মুসলিম নিহত হন।  
(৮) দিল্লি দাঙ্গা, ২০২০ সালে রাজধানী দিল্লিতে সংঘটিত এই দাঙ্গায় অন্তত পঞ্চাশজন মুসলিমকে হত্যা করা হয় এবং বিচারের নামে ভুক্তভোগী মুসলিম যুবকদের জেলে ভরে আরেকদফা নির্যাতন করা হয়।
.
এখানে আমরা বড় বড় কয়েকটি দাঙ্গার ঘটনা উল্লেখ করেছি। এগুলো ছাড়াও ভারতে অসংখ্য দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে, যাতে কয়েক লাখ মুসলিম প্রাণ হারিয়েছেন। ইদানিং আবার মুসলিম নিধনের নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করা হয়েছে, অন্যায় অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে বা পুড়িয়ে হত্যা করা। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে এমন ঘটনা। গত কয়েক বছরে এসব ঘটনায় কয়েকশো মুসলিম হতাহত হয়েছেন।    
.
কয়েক বছর ধরে উপমহাদেশের হিন্দুদের মাঝে বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান নিয়ে অখন্ড হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবী জোরালো হয়েছে। জনমত গঠনের জন্য ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা নেত্রী এবং মন্দিরের সাধু সন্তরা জায়গায় জায়গায় নিয়মিত সভা সেমিনারের আয়োজন করছে। এসব সভায় প্রকাশ্যে মুসলিম গণহত্যার কথা বলা হচ্ছে। হিন্দু রাষ্ট্রের কাঠামো সম্পর্কে হিন্দু নেতারা বলছেনঃ এই রাষ্ট্রে মুসলিমদের কোন স্থান দেয়া হবেনা, কেউ থাকতে চাইলে তাকে অবশ্যই ঘর ওয়াপসি করতে হবে অর্থাৎ হিন্দু হয়ে থাকতে হবে। এরপরও যদি কেউ রয়ে যায় তাহলে তাদের সাথে আরাকানী মুসলিমদের মত আচরণ করা হবে অর্থাৎ গণহত্যা করা হবে। এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে মসজিদ মাদ্রাসা সহ কোন ধরণের ইসলামী নিদর্শন বাকি রাখবেনা তারা।
.
ভারত ধীরে ধীরে ভয়াবহ মুসলিম গণহত্যার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এর জন্য যত ধরণের প্রস্তুতি নেয়া দরকার তার সবই নেয়া হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় হিন্দু সাধু সন্তরা ধর্মসভার আয়োজন করছে। এসব সভায় কিভাবে নিজেকে হেফাজত করে মুসলিমদের হত্যা করতে হবে সেই সবক শেখানো হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরাও জনসভাগুলোতে মুসলিম বিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তুলছে।
ফেসবুক হোয়াটস্যাপ গ্রুপগুলোতে আরএসএসের সদস্যরা বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য দিয়ে হিন্দুদের মাঝে উগ্রতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। জায়গায় জায়গায় আরএসএস বজরংদল বিশ্বহিন্দু পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সশস্ত্র প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনে ছোট ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে নারী পুরুষ সবাইকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যেন সবাই মিলে পরিকল্পিতভাবে খুব সহজে মুসলিমদের হত্যা করতে পারে। জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর গ্রেগরি স্ট্যানটনের মতে ভারতে গণহত্যার ১০টি ধাপের নয়টি ধাপই পুর্ণ করা হয়েছে। এখন শুধু গণহত্যা করার ধাপটি বাকি আছে।  
.
শুধু সীমান্তের ওপারে নয় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতেও এই বিষাক্ত হাওয়া এসে লেগেছে, আরএসএসের অধীনে এদেশে অনেকগুলো সংগঠন এই লক্ষ্যে কাজ করছে। সাম্প্রতিককালে দেশজুড়ে হিন্দুদের ব্যাপক বাড়াবাড়ি, মুসলিম মেয়েদের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা (সুযোগ পেলে ভারতে পাচার করা) এবং ফরিদপুরে দুই নির্মাণ শ্রমিককে হত্যা করা এর সামান্য কিছু উদাহরণ। আওয়ামী সরকারের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্র থামেনি।
.
 ভারতের মিডিয়াগুলোতে ফেইক নিউজ ও ভিডিও পাঠিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় আছে তারা। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই এবং সাধ্যমত প্রস্তুতি না নেই তাহলে হয়তো পরবর্তীতে অনেক বেশি আফসোস করতে হবে। কিন্তু সেই আফসোস আমাদের কোন কাজে আসবেনা। তাই আমাদের সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে এবং সাধ্যমত প্রস্তুতি নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাজত করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।
15 নভেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
বিশ্ব মুসলিমের প্রাণের চাওয়া- প্রতিষ্ঠিত হোক ইসলামী শরীয়াহ
.
বিশ্বের প্রতিটি তাওহীদবাদী মুমিনের দিলের তামান্না হল শরী@য়াহর ছায়াতলে জীবনযাপন করা এবং সবাই এক হয়ে খিলা@ফাহ আলা মিনহাজিন নুবুয়্যাহ প্রতিষ্ঠা করা। কারণ আমরা মানুষেরা হলাম দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলার খলিফা বা প্রতিনিধি, প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের কাজ হল জমিনে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করা এবং নিজেরা মেনে চলা। মানবজাতির ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ এই শরী@য়াহর মধ্যেই নিহিত রয়েছে। বর্তমানে দুনিয়াতে যে এত এত অন্যায় অপরাধ, চারদিকে মারামারি হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা, এর সমাধান একমাত্র শরী@য়াহর মধ্যেই রয়েছে। শরী@য়াহ ছাড়া অন্য কোন উপায়ে এই অশান্ত পৃথিবীকে শান্ত করা সম্ভব নয়। কারণ আমাদের সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তাআলা।
আর স্রষ্টাই ভাল জানেন, কিভাবে চললে তার সৃষ্টি ভাল থাকবে, কোন ধরণের আইন প্রতিষ্ঠিত হলে দুনিয়াতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। তিনিই ভাল জানেন কোন উপায়ে তার সৃষ্টিকে অন্যায় অপরাধ থেকে বিরত রাখা সম্ভব, কোন উপায়ে ধনী গরীবের বৈষম্য দূর করে সম্পদের সুষম বন্টন করা সম্ভব। তাই তিনি সেই অনুপাতেই আমাদের জন্য বিধি বিধান দিয়েছেন।
.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদীন এবং পরবর্তী খলিফাগণ এই শরী@য়াহর মাধ্যমেই দুনিয়া থেকে সকল অন্যায় অবিচার দূর করে মানবজাতিকে এক শান্তিময় পৃথিবী উপহার দিয়েছিলেন। তাদের ন্যায় ইনসাফের ফলে দুনিয়া থেকে যাবতীয় অন্যায় ও বৈষম্য বিদায় নিয়েছিল। মানুষে মানুষে হানাহানি মারামারি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, অন্যায় অপরাধ কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল, সবার মনে আল্লাহর ভয় জাগ্রত ছিল। যাকাতভিত্তিক অর্থব্যাবস্থার ফলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিদায় নিয়েছিল।
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, লোকেরা যাকাত দেয়ার জন্য গরীব খুঁজতো, কিন্তু ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানায় গরীব খুঁজে পাওয়া ছিল অনেক কষ্টসাধ্য। সেসময় ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত এত বেশি মজবুত ছিল যে, কাফেররা মুসলিমদের উপর হামলা করা তো দূরের কথা চোখ তুলে তাকানোর সাহসও পেতোনা।
মুসলিমদের সাহসিকতা ও বীরত্ব দেখে তারা সর্বদা ভীত সন্ত্রস্থ থাকতো। চারদিকে ইসলামী রাষ্ট্রের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, কাফের দেশের নাগরিকরা তাদের রাজাদের জুলুম থেকে মুক্তির জন্য মুসলিম বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানাতো।
.
পরবর্তীতে আমাদের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার ফলে যখন খিলাফার পতন হল এবং এর স্থলে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র নামক জুলুমতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হল, তখন জালিমরা তাদের জুলুমকে স্থায়ী করার জন্য ইসলামী শরী@য়াহর ব্যাপারে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালাতে শুরু করলো।
.
শরী@য়াহ শাসন ও ইসলামী দণ্ডবিধিকে তারা মানুষের সামনে বাঘ ভাল্লুকের চেয়েও ভয়ংকর বস্তু হিসেবে তুলে ধরলো। যেন মানুষ ভুলেও ইসলামী শরীয়া ফিরিয়ে আনার চিন্তা না করে। এখন হয়েছেও তাই, মানুষ কয়েক বছর পর পর নতুন জালিম নির্বাচন করে। তাদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে গেলে আবার নতুন কাউকে নির্বাচন করে। এভাবেই জুলুমের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে উম্মাহ, কিন্তু শরীয়া ফিরিয়ে আনার ফিকির কারো মাথায় আসছেনা।
.
হে প্রিয় উম্মাহ! আর কতকাল আমরা এভাবে ধোঁকা খাবো? আর কতকাল কুফফারদের বানানো পদ্ধতিতে ধরায় শান্তি ফেরানোর অলিক স্বপ্ন দেখবো? আমাদের কি এখনো বোধোদয় হয়নি যে, এসব তন্ত্র মন্ত্র শুধুই ধোঁকা, জনতাকে নিপীড়ন করার হাতিয়ার?
.
হে দ্বায়ী ভাইয়েরা! আসুন আমরা সবাই মিলে মানুষের সামনে ইসলামী শাসনের সৌন্দর্য্য তুলে ধরি। সবাইকে ইসলামী শাসনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তুলি। মসজিদের মিম্বার এবং বয়ানের স্টেজগুলোতে অন্যান্য দ্বীনি বিষয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি এইসব ব্যাপারেও বয়ান করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমীন, ছুম্মা আমীন।
08 নভেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
এখনো আমরা স্বাধীন হতে পারিনি।
.
বাংলাদেশ এক জঘন্য স্বৈরাচারী, সন্ত্রাসী, খুনি ও ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের কবল থেকে নিস্তার পেয়েছে। দেশের নিরপরাধ মানুষ নির্ভয়ে বাঁচার অধিকার ফিরে পেয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট, এই ১৬ বছরের শাসনামলে গুণ্ডামি, চাঁদাবাজি, হত্যা, জেল, জুলুম, গুম, গণহত্যা— এমন কোনো অন্যায় নেই যা শেখ হাসিনা ও তার ক্ষমতাভোগীরা করেনি। বিএনপি, জামাত-শিবির, রাজাকার, জ/ঙ্গী, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী —ইত্যাদি তকমা সাঁটিয়ে খুব সহজেই যে কারো উপর ক্রসফায়ার বা জেল-জুলুমকে বৈধ করে নিত এই খুনী হাসিনা। তাছাড়া বিশেষত ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সে ছিল অত্যন্ত কঠোর।
.
অখণ্ড ভারতজুড়ে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার একনিষ্ঠ সেবক হয়ে সে ছিল বাংলাদেশি এজেন্ট। হিন্দুদের ক্ষমতায়ন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান ও সর্বপ্রকারের সুযোগ সুবিধা প্রদান ছিল এই হাসিনার প্রধান কাজ। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও এদেশের মুসলিমরা সংখ্যালঘু হিন্দুদের দ্বারা জুলুমের শিকার হয়েছে প্রতিনিয়ত। শেখ হাসিনার ভারতপ্রীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে মেনে নিতে হয়েছে জেল-জুলুম বা হত্যা। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা শুরু থেকেই জাতিকে সতর্ক করে আসছিলাম। দৃঢ়চিত্তে বলে আসছিলাম: শেখ হাসিনা ইসলাম ও এদেশের মুসলিমদের শত্রু এবং এদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। আলহামদুলিল্লাহ দীর্ঘ প্রায় ষোল বছর পর আমরা এরকম এক স্বৈরাচারীর হাত থেকে মুক্তি পেলাম।
.
এ আন্দোলনে যারা আহত-নিহত হয়েছেন তাদের সকলের জন্যই আমরা দোয়া করি। নিহত ঈমানদারদেরকে আল্লাহ্‌ তাআলা শাহাদাতের মর্যাদা দান করে জান্নাতবাসী করেন আর আহতদের সুস্থতাকে তিনি ত্বরান্বিত করেন, আমীন। যারা দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা ইসলামের সাথে শত্রুতা না করলে তাদেরকে   অভিনন্দন।
.
প্রিয় উম্মাহ! তবে আমি আজকে আপনাদের একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ধুলোর আস্তর সরিয়ে স্পষ্ট করে দিতে চাই— “এ স্বাধীনতা আমাদের পূর্ণাঙ্গ ও প্রকৃত স্বাধীনতা নয়”। কেননা, এখনো আমরা গণতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ, স্বাধীন হতে পারিনি। এখনো আমেরিকার দাসত্বে বাঁধা আমাদের জীবন, স্বাধীন হতে পারিনি। সেক্যুলারিজম, ন্যাশনালিজম, লিবারেলিজমসহ হাজারটা কুফরী ইজম বা মতবাদ আমদের মুসলিম সমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে।
.
আপনি যদি মনে করে থাকেন, শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে শতভাগ বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে, তাই আপনি সব জায়গায় জিহাদের কথা, শাহাদাতের কথা, ইসলামী খিলাফাহর কথা আলোচনা করতে পারবেন তাহলে আপনি স্বপ্নের জগতে বাস করছেন। বাস্তবতা হল এখনও আপনি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারবেন না। জিহাদের ফরজিয়্যাত, শাহাদাতের ফজীলত, ইসলামী খিলাফাহর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না। আল কায়েদার মানহাজ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন না। তালিবানের রাষ্ট্রনীতি নিয়েও আলোচনা করতে পারবেন না। তাহলে আপনি টেররিস্ট বা সন্ত্রাসী হয়ে যাবেন।
কারণ, এখনো এদেশ সেক্যুলার ব্যবস্থাতেই পরিচালিত হচ্ছে, এখনো এদেশের উপর আমেরিকার কতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীভাবে বিদ্যমান আছে। আমরা শুধু শাসক পরিবর্তন করেছি,  (এবং এ পরিবর্তন ইতিবাচকও বটে ইনশাআল্লাহ,যেহেতু এর দ্বারা জুলুম কমেছে ও তুলনামূক স্বাধীনতা বেড়েছে) কিন্তু  আমরা এখনো দাসত্বের অবসান ঘটাতে পারিনি।
.
তাই, ভালো করে মনে রাখবেন, আমরা আজও পরাধীন। যতদিন না আমরা মুসলিমরা অন্য কোনো কাফের রাষ্ট্রের আধিপত্য থেকে মুক্ত স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন করতে পারছি, ততদিন আমরা স্বাধীন নই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি দেশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত করবেন? না! তিনি বরং গণতন্ত্র-ই প্রতিষ্ঠা করবেন। গণতন্ত্রের প্রভূ তো আমেরিকা। যে রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের চর্চা হবে সে রাষ্ট্র আমেরিকার দাসত্বকেই মেনে নিল। আমাদের প্রকৃত মুক্তি ও স্বাধীনতা একমাত্র ইসলামী খিলাফতের মধ্যেই নিহিত। তাই আবারো বলছি, আমরা এখনো স্বাধীন হতে পারিনি। তবে একদিন আমরা অবশ্যই প্রকৃত স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করব ইনশাআল্লাহ্‌। সে আনন্দ অতীতের সকল আনন্দকে ম্লান করে দেবে।
31 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা
.
১। আজকের এই বিজয় ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যের জুলুমের শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের এক বিজয়। সুতরাং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিগত ১৬ বছরে অন্যায়-অবিচার ও জুলুমের যে ক্যান্সার তৈরি করা হয়েছে, তার মূলোৎপাটন করা না হলে এর সুফল এদেশের মানুষ কখনোই পাবে না।
২। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়াসহ বিগত প্রায় ১৬ বছরে যত মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, হত্যা,গুম-খুন,হামলা-মামলার শিকার হয়ে অপরিসীম যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, তাদের কান্নাগুলো অভিশাপ হয়েই আজ খুনিদের পতন ঘটিয়েছে। সুতরাং তাদের হৃদয়ের যন্ত্রণা উপশমের প্রচেষ্টা অব্যাহত না থাকলে, তাদের বোবা কান্নাগুলো আবার অভিশাপ হয়ে নতুন অপরাধীদেরকে তাড়া করবে।
৩। বিগত প্রায় ১৬ বছরে যারা অপরাধ করেছে এবং সেই অপরাধে সহযোগী ও সমর্থক হয়ে তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে (হোক রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক-আধা সামরিক বাহিনী বা অন্য যেকোনো ব্যক্তি), তাদের প্রত্যেককে তাদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪। উলামায়ে কিরামসহ জালিমের কারাগারে বন্দী যত নীরিহ মানুষ রয়েছে, তাদের সকলকে অবিলম্বে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে তাদের উপর হওয়া অত্যাচারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। নিরপরাধ কোনো মানুষকে যেনো একটা ফুলের টোকাও দেওয়া না হয়। আপনার সাথে ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো দ্বন্দ্ব কারো থাকতেই পারে কিন্তু এই সুযোগে তাকে কোনো ধরণের ক্ষতি করা হলে তা হবে সম্পূর্ণ জুলুম। আর জালিমের কোনো ক্ষমা নেই, যা আজ আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। আর এক জালিমের বিরোধিতা করে নিজেই জালিম হয়ে যাওয়ার চেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ আর হতে পারে না।
৬। ব্যক্তিগত কিংবা জাতীয় কোনো সম্পদের কোনো ধরণের ক্ষতি করা যাবে না। কারণ এই সম্পদের মালিক এদেশের মানুষ। অপরাধী ও তাদের সমর্থকদের অবৈধ সম্পদ ক্রোক করে তা জনগণের জন্য ব্যয় করতে হবে। সম্পদ ক্ষতি করা মানে আমি আমার নিজেরই ক্ষতি করছি।
৭। এদেশে বিগত ১৬ বছর ধরে সবচেয়ে নির্যাতিত হয়েছেন আলিম-উলামা ও ইসলামপন্থীগণ। সুতরাং তাদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। যেখানে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয় না, সেখানে জুলুমের রাজত্ব কখনো বন্ধ হবে না। তথাকথিত সুশীল ও নিরাপদে থাকা ব্যক্তিদেরকে ক্ষমতায় বসালে একই জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কোনো সন্দেহ নেই।
৮। যে বীর ছাত্ররা এই আন্দোলন শুরু করেছে এবং এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, তাদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এ দেশ এবং দেশের জনগণের বিষয়ে সেনাবাহিনী কিংবা সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যাবেনা, বরং বিপ্লবী ছাত্র-জনতাই এ বিষয়ে ফায়সালা করবে।
৯।  ইসলাম হচ্ছে একমাত্র পূর্ণাংগ ও ইনসাফভিত্তিক জীবনব্যবস্থা। সুতরাং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক আদর্শ সমাজ পরিচালনা করা হলেই জুলুমের চক্র বন্ধ করা সম্ভব। অন্যথায় ঘুরেফিরে একই জুলুম আবার ফিরে আসবে, আজ কিংবা কাল।
28 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
আল্লাহ তাআলা জিহাদকে ইসলামের হেফাজতের জন্য পাঠিয়েছেন


ধ্বংসের জন্য পাঠাননি। নবী আলাইহিস সালাম এবং সাহাবায়ে কেরাম জিহাদকে এই দ্বীনের মুহাফিজ ভাবতেন। এ কারণে তাঁরা জিহাদের পথে এত ত্যাগ এবং কোরবানীর বিনিময়ে এই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। অতএব যারা বর্তমানে জি@হাদকে মসজিদ-মাদ্রাসা ধ্বংসের কারণ মনে করে, তারা খুব স্পষ্টভাবেই নববী চিন্তার বিপরীতে অবস্থান করছে।
17 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
আমার প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন, গত কয়েক বছর থেকে আমি আপনাদেরকে ভারতের হি*ন্দু-ত্ব'বাদী শক্তি ও তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করে আসছি। বিভিন্ন লেকচারে তুলে ধরেছি উগ্র হিন্দুরা মুসলিম নিধনে ও রামরাজ্য প্রতিষ্ঠায় কত ভয়ংকর ছক এঁকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে! এ দেশের ক্ষমতার মসনদে চেপে বসা জালিম তা^গু`ত হাসিনা সরকার দিনদিন কীভাবে হি*ন্দু-ত্ব'বাদের তাবেদারি করে চলেছে!  
হ্যাঁ, প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন, সময় যতই গড়াচ্ছে, গো-পূজারিদের আস্ফালন ততই বেড়ে চলেছে! ভারতের মতো বাংলাদেশেও আজ উগ্র হিন্দুদের ঔদ্ধত্য চরম মাত্রায় পৌঁছেছে!  
.
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের দেশে আজ তুচ্ছ অভিযোগ তুলে স্রেফ সন্দেহের বশে মুসলিমদের নৃশংসভাবে খুন করার মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটছে! মুসলিমদের হুমকি দেয়া হচ্ছে! পূজাতে অস্ত্র উঁচিয়ে শক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে! প্রকাশ্যে উচ্চ আওয়াজে ‘জয় শ্রীরাম’-এর ¯স্লোগান তোলা হচ্ছে! শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘটা করে উদযাপন করা হচ্ছে শিরকি উৎসব; পক্ষান্তরে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলামের বিধিবিধান পালনে বাঁধা প্রয়োগ করা হচ্ছে! প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুসলিম নারীদের ভারতে পাচার করে পতিতালয়ে বিক্রি করার এবং হিন্দু বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে!   
.   
আমার প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন, সম্প্রতি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পঞ্চপল্লীতে উগ্র হিন্দু স*ন্ত্রা*সীদের হাতে দুই মুসলিম সহোদরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন। মুসলিম নিধনে এ দেশের উগ্র হিন্দুদের আস্ফালন আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বোঝার জন্য এ হৃদয়বিদারক ঘটনাই যথেষ্ট! মন্দিরে আগুন লাগানোর অভিযোগ এনে মন্দিরের পাশে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত হত-দরিদ্র নির্মাণশ্রমিকদের ওপর উগ্র হিন্দুরা সংঘবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে দুই মুসলিম সহোদর ভাইকে হত্যা করেছে! মারাত্মকভাবে আহত করে দীর্ঘ সময় বন্দি করে রেখেছিল আরও চার শ্রমিককে! কোনো প্রমাণ ছাড়াই শুধু সন্দেহের বশে হত-দরিদ্র মুসলিম দিনমজুরদের ওপর এমন নৃশংস হামলা চালায় হিন্দু সন্ত্রাসীরা! এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পাশবিক আনন্দ প্রকাশ করেছে এ দেশের উগ্র হিন্দু সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত নেতা-কর্মীরা!
.
এ দেশের তথাকথিত সুশীল নামক অথর্ব কীটগুলোও আজ মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে! মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলোও ঘটনার বিস্তারিত তুলে না ধরে অত্যন্ত দায়সারাভাবে সামান্য কিছু সংবাদ প্রকাশ করেছে! তাদের শিরোনাম দেখে অনেকে খুনের শিকার দুই মুসলিম সহোদরকে অপরাধী ভাবতে পারে! অথচ আজ যদি ঘটনা তার বিপরীত হতো, এভাবে কোনো এক হিন্দুর লাশ পড়ত, তবে সুশীল শ্রেণি ও মিডিয়াপাড়া সেই হিন্দুকে নিরপরাধ প্রমাণে এবং মুসলিমদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে গলা ফাটিয়ে ফেলত!  
.
আমার প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন, আপনারা হয়তো ভেবে অবাক হচ্ছেন, এ দেশের সংখ্যালঘু উগ্র হি*ন্দু-ত্ব'বাদীরা কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ওপর আক্রমণের এতটা সাহস পায়! কীভাবে তারা মুসলিমদের হুমকি দিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে! এ দেশে তারা মুসলিমদের তুলনায় সংখ্যায় খুব অল্প হলেও তাদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও দুঃসাহস দেখানোর প্রধান কারণ দুটো।
একদিকে তারা ভারতের উগ্র হি*ন্দু-ত্ব'বাদী শক্তি ও ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারই মতাদর্শ অনুযায়ী কাজ করছে, অপরদিকে তারা ভারতের মদদপুষ্ট হাসিনা সরকারের অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতা পাচ্ছে। তারা নির্ভয়ে আছে, তাদের যেকোনো অন্যায়ে এ দুই শক্তি তাদের পাশেই থাকবে। হ্যাঁ, দিনদিনই তারা এ দুই শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানান প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে!
এ দেশের উগ্র হি*ন্দু-ত্ব'বাদীদের আর কসাই মোদির টার্গেট এক ও অভিন্ন। এরা কসাই মোদির মতোই মুসলিমদের রক্তখেকো। উগ্র হি*ন্দু-ত্ব'বাদী ভারতের হোক বা বাংলাদেশের হোক, রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করাই এদের লক্ষ্য।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই এরা ইসলামের নিদর্শনাবলিকে মুছে ফেলার প্রয়াসে কাজ করে চলেছে। এদের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও এদেরকে খুশি করার জন্যই এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইফতার মাহফিল বন্ধের ঘোষণা এসেছিল! এদেরকে খুশি করার জন্যই স্কুল-কলেজগুলোতে আজ ঘটা করে পূজার উৎসব চলছে! মঙ্গল শোভাযাত্রার মতো ইমানবিধ্বংসী নানান কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে!
.
মুসলিমপ্রধান এ দেশে হি*ন্দু-ত্ব'বাদের এমন ভয়ংকর আগ্রাসন সত্ত্বেও কেবল গদি টিকিয়ে রাখতেই হাসিনা ও তার লীগবাহিনী ভারত ও হি*ন্দু-ত্ব'বাদের ক্রিড়নকে পরিণত হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রমাদান বিষয়ক আলোচনা করার কারণে সাধারণ মুসলিম ছাত্রদেরকে ছাত্রলীগের গুণ্ডারা বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে! বুঝেশুনে হোক কিংবা না বুঝে হোক, আওয়ামিলীগ ও তাদের প্রতিটি অঙ্গসংগঠন বরাবরই ভারত ও হিন্দুদের স্বার্থকেই রক্ষা করছে। হিন্দুদের শিরকি ধর্মবিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করার মিশনে তারা সহযোগিতা করে যাচ্ছে!     
.
আমার প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন, এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কী, তা নির্ধারণের আগে হি*ন্দু-ত্ব'বাদ এবং এদেশে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদেরকে আমাদের চিনে রাখতে হবে। হি*ন্দু-ত্ব'বাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদেরকে কাছে উগ্র হিন্দুদের বিচার দাবি করে হিন্দুদের আগ্রাসনকে দমানো যাবে না। ভারতের মোদি সরকার হোক কিংবা এদেশে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী হোক - পুরো হি*ন্দু-ত্ব'বাদের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধেই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। হি*ন্দু-ত্ব'বাদের ভয়ংকর মিশনের ব্যাপারে সচেতন থাকার পাশাপাশি গাজওয়াতুল হিন্দের টার্গেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করে সামনে এগুতে হবে।
.
মুসলিমদের হেনস্থা ও নিধনের লক্ষ্যে হিন্দুদের সাজানো সব নাটক সম্পর্কে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় সকল মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যেন একজন সাধারণ মুসলিমকেও উগ্র হিন্দুরা সন্দেহের বশে আক্রমণ করার দুঃসাহস দেখাতে না পারে। বিয়ে করে ইসলাম গ্রহণের প্রলোভন দেখানো হিন্দু যুবকদের প্রেমের ফাঁদ থেকে মুসলিম মেয়েদের দূরে থাকতে হবে। কাফির-মুশরিকদের সাথে মুমিনদের কোনো বন্ধুত্ব ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না।
.
মুসলিমদের নিজেদের মাঝে দ্বন্দ্ব-বিবাদ এড়িয়ে ঐক্যের ভিতকে মজবুত রাখতে হবে। ফুরুয়ি ইখতিলাফ নিয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। সর্বোপরি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আল্লাহর জমিন থেকে শিরক ও কুফরের মূলোৎপাটনের লক্ষ্যে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণে মনোযোগী হতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে দুআ করি, ফরিদপুরের মধুখালীতে উগ্র হিন্দুুদের হাতে নিহত দুই মুসলিম সহোদর ভাইকে তিনি শাহা@দাতের মর্যাদা দান করুন। তাদের পরিবার-পরিজনদের সবরে জামিল ইখতিয়ার করার তাওফিক দিন। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
15 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani

18,653 টি প্রশ্ন

19,566 টি উত্তর

2,578 টি মন্তব্য

103,480 জন সদস্য

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

এক প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট/লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি আর ফ্রী প্রমোশন!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার ধারণাটাই বদলে দিবে! (পড়ুন...)

আপনি কি জানেন—প্রতি সেকেন্ডে কারও না কারও লেখা চুরি হচ্ছে? আপনার লেখাগুলো কি নিরাপদ? যখন লেখা ছড়িয়ে থাকে—সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ কিংবা সংবাদপত্রে—হযবরল অগোছালো অবস্থায়… তখন একদিকে চুরির ভয়, অন্যদিকে লেখক হারান নিজের পরিচয়। প্রমাণও থাকে না। পাঠকও বা কিভাবে পাবে মূল লেখকের সংস্পর্শ?

ই-নলেজ আইডিয়া—আপনার কেন্দ্রীয় লেখালেখির ঠিকানা। প্রতিটি লেখার জন্য থাকছে ভেরিফাইড পোষ্ট আইডি (eID), আর আপনার জন্য কেন্দ্রীয় লেখক আইডি নম্বর—যেটা ব্যবহার করতে পারেন Bio, CV, কিংবা বই-র রেফারেন্সে। আর ই-আইডি(eID) জুড়ে দিবেন প্রতিটি লেখার সঙ্গে। (যেমন- পোষ্ট eID: ১২৩ ; #eID_123 #enolej)। ফলে কপিরাইট সুরক্ষা থাকবে নিশ্চিত, আর পাঠক থাকবে মূল লেখকের সংস্পর্শে। আর ভেরিফাই হলে করতে পারবেন আপনার পেজ কিংবা ব্লগ এর ফ্রী প্রমোশন!

আপনার লেখক প্রোফাইলেই থাকবে আপনার আর্কাইভ—সব লেখা, ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি আর পাঠকের প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে গোছানো।

এখানে আপনি একা নন, পাচ্ছেন লেখক কমিউনিটি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো লেখক ছড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম একটাই—যেখানে আপনার স্বত্ব, স্বীকৃতি আর অবস্থান সুরক্ষিত। কেউ কারও eID নকল করতে পারবেনা, কেন্দ্রীয় সোর্স একটাই। এখানেই থাকছে লেখক র‍্যাংক—যেখানে তুলনায় ঝলমল করে উঠবে আপনার কৃতিত্ব।

এটাই আপনার কেন্দ্রীয় ঠিকানা। ভেরিফাই করুন আজই—আপনার লেখাকে দিন স্থায়ী সুরক্ষা।

বিস্তারিত পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ই-নলেজ কুয়েরি বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি প্রশ্ন-উত্তর করার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দিতে পারেন অন্যদের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান! বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়ালেখা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, বিজ্ঞান বিষয়ক, সাধারণ জ্ঞান, ইন্টারনেট, দৈনন্দিন নানান সমস্যা সহ সকল বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর করতে পারবেন! প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বাংলা ভাষায় উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য!
তাই আজই যুক্ত হোন ই-নলেজে আর বাড়িয়ে দিন আপনার জ্ঞানের গভীরতা...!
Empowering Novel Learners with Joy (Enolej)


...